রাত্রে আমাদের দুই বোন

 মধ্যরাতের ট্রেনে আমাদের দু'বোনের কেবিনে ঢুকে পড়লো এক অচেনা যুবক। শুধু ঢুকেই ক্ষান্ত হয় নি; আমাদেরকে ভেতরের দিকে ধা'ক্কিয়ে ঝটপট কেবিনের দরজাটাও বন্ধ করে দিলো। দু'দিন আগে মহানন্দে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। আজ রাতে খবর এলো বড় চাচা স্ট্রোক করেছেন; ভীষণ অসুস্থ। সাহস করে রাতের ট্রেনেই আমরা দু'বোন রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। আজ ট্রেনে কোনো সাধারণ টিকেট পাওয়া যায় নি। শুধু এই একটি কেবিনই পাওয়া গেলো; সেটাও এক পরিবার হঠাৎ ছেড়ে দিয়েছে বলে। মোটা অংকের টাকায় কেবিনটি বুক করে আমরা রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। এখন সময় রাত সাড়ে বারোটার মতো। ঘুমের আগে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার প্রয়োজন অনুভূত হলো। ওয়াশরুমের উদ্দেশ্যে দু'বোন একসাথে বের হচ্ছিলাম কেবিন ছেড়ে। দরজা খুলতেই ক্ষিপ্র গতিতে লম্বা-চওড়া যুবকটি ঢুকে পড়লেন ভেতরে।


আজকের এই ট্রেনযাত্রী দু'বোনের নাম সামিহা এবং নাবিহা। সামিহা বয়সে বড়। মেয়েটি উৎকণ্ঠিত ভঙ্গিতে অপরিচিত যুবকটিকে জিজ্ঞেস করলো, 'কে আপনি? এভাবে কেন ঢুকে পড়লেন আমাদের কেবিনে?'


শ্যামবর্ণের যুবকটি কেবিনের দরজায় শরীর এলিয়ে দাঁড়িয়ে। বক্ষের নিরন্তর উঠা-নামায় অস্থিরচিত্তে ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে। থুতনি উঁচিয়ে বদনখানি উর্ধ্বমুখী করে রেখেছে, আঁখিযুগল বন্ধ। সেভাবে আঁখি বন্ধ রেখেই জবাব দিলো, 'আমি রায়ান মেহেরাব। পেশায় ফুড ডিপার্টমেন্টের অফিসার।'


'ওহ্ আচ্ছা! সব ফুড খেয়ে ধরা পড়েছেন নাকি?'-- কটূক্তির সুরে প্রশ্ন করলো নাবিহা। যুবকটি গম্ভীর কণ্ঠে ইষৎ বিরক্তির সুর টেনে জবাব দিলো, 'কে বললো আমি ফুড খেয়ে ধরা পড়েছি? না জেনে বা'জে কথা বলা একদম ঠিক নয়!'


'ঠিক-বেঠিক বুঝলে এভাবে মেয়ে মানুষের কেবিনে এসে ঢুকে পড়তেন না!'


'আস্তে কথা বলুন প্লিজ! এক দল স'ন্ত্রাসী আমায় ধাওয়া করেছে!'

'আপনি নিজেও তো স'ন্ত্রাসীর মতোই আমাদের কেবিনে ঢুকে পড়েছেন!'---নাবিহার স্পষ্ট জবাব।


'দেখুন, ওরা আমায় মে'রে ফেলতো। ট্রেন ছুটতে দেখে প্রাণ বাঁচাতে আমি দৌড়ে ট্রেনে উঠেছি। স'ন্ত্রাসীরাও এই ট্রেনেই উঠেছে! দয়া করে একটু চুপ থাকুন!'


'আমরা কি করে বিশ্বাস করবো আপনাকে; যে আপনি নিজেও স'ন্ত্রাসী নন!'


'বলেছি তো, আমি ফুড অফিসার।'


'আপনার আইডি কার্ড আছে সাথে?'--এতোক্ষণ পরে সামিহা প্রশ্ন করলো ভীষণ কৌতূহলে।


'আইডি কার্ড,মুঠোফোনসহ সব রেখে দিয়েছে ওরা!'


'স'ন্ত্রাসীদের সাথে কি ঝা'মেলা হয়েছিলো আপনার?'


'সরকারি গোডাউন থেকে মা*ল চু'রি করেছে ওরা। আমি রিপোর্ট দিয়েছিলাম ওদের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই আজ আ'ক্রমণ করলো!'


'দেখুন, এতোসব শোনার সময় আমাদের নেই! চিনি না জানি না; কি করে বিশ্বাস করবো আপনাকে! কেবিনে আপনার উপস্থিতির কারণে আমাদের চরিত্রে ব'দনাম আসতে পারে। প্লিজ, আপনি স্বেচ্ছায় বেরিয়ে যান! নয়তো আমরা রেলের লোক ডাকবো!'--সামিহা বেশ কর্কশ কণ্ঠে হুশিয়ারি দিলো।


'আমায় বিশ্বাস করতে পারেন! আমি কোনো ক্ষ*তি করবো না! শুধু আপনাদের একটা মুঠোফোন দিন। আমি নিজেই রেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করবো! পুলিশের সহায়তায় নেক্সট স্টেশনে নেমে যাবো!'--একশ্বাসে কথাগুলো বলে কেবিন বেড থেকে ওদের পানির বোতল নিয়ে পানি পানে ব্যস্ত হলো রায়ান। 


ওরা দু'বোন চোখাচোখি করলো নিঃশব্দে। সরকারি চাকরির আইডি কার্ড নেই এ যুবকের সাথে। নিশ্চয়ই চাকরির ব্যাপারটা সম্পূর্ণ মিথ্যে। ওদের স'ন্দেহ যুবকটি নিজেও ছি'নতাইকারী হতে পারে! মুঠোফোন দেয়া যাবে না কিছুতেই। কত শত স্মৃতি মুঠোফোনে! কত দিনের মায়া জড়ানো!যদি ফোন নিয়েই চলে যায়! তবে মান-সম্মান বাঁচাতে লোকটিকে কেবিন থেকে যেকোনোভাবে তাড়াতে হবে! 


দুজন ইশারায় সিদ্ধান্ত নিলো কেবিনের দরজা খুলে বের হয়ে যাবে। তারপরে যেকোনোভাবে রেলের লোকদের ডেকে আনবে। তারাই এসে বের করে দেবে এ অচেনা আগন্তুককে। যেই ভাবা সেই কাজ। সামিহা তড়াক করে লাফিয়ে চলে গেলো দরজার পানে। দরজায় লকে হাত দিতেই রায়ান পেছন থেকে গলা চে'পে ধরলো মেয়েটির। নাবিহা ছুটে এসে বোনের গলা থেকে হাত সরিয়ে দিতে চাইলো। রায়ান নিজেই সামিহার গলা থেকে হাত দুটো কিঞ্চিৎ আলগা করেছে। পাশ থেকে নাবিহা সজোরে ধা'ক্কা দিলো ছেলেটিকে। ছেলেটি ঘুরেই ঠা*স করে এক চ'ড় লাগালো। সামিহাকেও এক ধা'ক্কায় ভেতরের দিকে ঠেলে দিলো। মেয়েটি গিয়ে ছিটকে পড়েলো কেবিন বেডের উপরে। রায়ান এখনো দাঁড়িয়ে কামরার বদ্ধ দরজায়। ভীষণ রাগ ছেলেটির অস্থির নয়ন-বদনে। ওদের দু'বোনের পানে অনলঝরা দৃষ্টিতে চেয়ে হুকুমের সুরে বললো, 'একটা মুঠোফোন দিন। অন্যথায় চুপচাপ বসে থাকুন!'


হঠাৎ ঠক' ঠক' শব্দে নক হলো দরজায়। রায়ান আদেশসূচক ভঙ্গিতে ইশারা দিলো মেয়ে দুটোকে ; কে এসেছে জিজ্ঞেস করতে! সামিহা গলা হাঁ'কিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'কে? কে নক করছে দরজায়?'


ওপাশ থেকে জবাব এলো, 'আপনাদের কেবিনে কি একজন পুরুষ লোক এসে ঢুকেছে?'


ওদের তিন জনেরই বোধগম্য হলো স'ন্ত্রাসীরা ন*ক করেছে। সামিহা জোর গলায় জবাব দিলো, 'না, আমাদের কেবিনে কোন পুরুষ লোক আসেনি!'


আর কোনো আওয়াজ এলো না দরজার ওপাশ থেকে। কারো ফিরে যাবার পদধ্বনিও শোনা যায় নি। রায়ান তর্জনী উঁচিয়ে চুপ থাকার অনুরোধ করলো মেয়ে দুটোকে। ওরাও বাধ্য নারীর ন্যায় কিছুক্ষণ নীরব হয়ে রইলো। এই নিঝুম নীরবতার মাঝে সামিহা একটু পানি পান করেছে শুধু। থা'প্পড়ের দাগ আর রাগের লালাভ আভা মিলে নাবিহার বদনখানি লালে লাল। তবুও এখন নির্বাক,নীরব মেয়েটি। খানিক বাদে নীরবতা কাটিয়ে সামিহা বিনয়ী সুরে বললো, 'মি. রায়ান, আপনি প্লিজ চলে যান! মধ্যরাতে আমাদেরকে বিপদে ফেলবেন না!'


'আপনারাই তো বিপদ ডেকে আনছেন! চুপ করে থাকতে পারেন না?'


রায়ানের কথা শেষ হতেই আচানক আবারও ন*ক হলো দরজায়। সামিহা চেঁ'চিয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'কে?'

দরজার ওপাশ থেকে পাল্টা প্রশ্ন করলো, 'আপনাদের সাথে কি কেবিনে কোনো পুরুষ লোক যাচ্ছে?'


রায়ান ইশারায় বুঝিয়ে দিলো ঐ স'ন্ত্রাসী লোকগুলোই দরজায়! দুশ্চিন্তার দীর্ঘ ভাঁজ স্পষ্ট হলো সামিহার ললাটে। খানিক ভেবে নির্দ্বিধায় জবাব দিলো, 'হ্যাঁ, আমার হাজব্যান্ড যাচ্ছে।'


রায়ান আড়চোখে একপলক তাকালো সামিহার বদনে। হাজব্যান্ড কথাটা শুনে বদনে জড়ানো সব রাগ,সকল হতাশা উড়ে গেলো সুদূরে। বেখেয়ালি মেয়ে দুটো খেয়ালই করে নি ব্যাপারটি। আবারও নিদারুণ নিস্তব্ধতা নেমে এলো কেবিনে। কারণ লোকগুলো কেবিনের সামনে চুপটি করেও তো থাকতে পারে! এমনটা ভেবেই সবাই নিশ্চুপ,নির্বাক,নীরব।


ওদের ভাড়াকৃত কেবিনটি চার বেডের। উপরে দুটো বেড আর নিচে দুটো। রায়ান লাফিয়ে দ্রুত উঠে গেলো উপরের একটি বেডে। কেবিনের সামনে শত্রু থাকতে পারে ভেবে এখনই আওয়াজ করলো না। পাছে যদি কণ্ঠস্বর চিনে ফেলে! যদিও কেবিনের ভেতরের আওয়াজ বাইরে থেকে তেমন শোনা যায় না। তবুও বিপদের মাঝে কত কি হয়ে যায়! এসব ভবেই ছেলেটি ইশারায় ওদেরকে বললো, 'একটা মুঠোফোন দিন। নয়তো সামনের স্টেশনেও নামবো না!'


সামিহা আনমনে ভাবলো- এ যুবক কেবিনে থাকলেই সন্ত্রাসীদের আনাগোনাও থাকবে দোরগোড়ায়। এরচেয়ে মুঠোফোন দিয়ে দেই। তাতেও যদি কোনো কাজ হয়! এমনটা ভেবে মেয়েটি সম্মুখে এগিয়ে মুঠোফোন বাড়িয়ে দিলো আলতো হাতে। রায়ান ডিভাইসটি নিয়ে ভ্রু-কুঁচকে আনমনে কিছু একটা ভাবলো। অতঃপর কিছুক্ষণ মগ্ন থাকলো মুঠোফোনে। ছেলেটির কাজ শেষ হয়ে গেছে অলরেডি। হাত বাড়িয়ে মুঠোফোনটিও ফিরিয়ে দিলো সযত্নে। 


উপরের বেডে শুয়ে চুপিসারে মুঠোফোনে কি করেছে; কিছুই বুঝতে পারলো না ওরা দু'বোন। কিন্তু ভীষণ অবাক হলো রায়ান কর্তৃক কাউকে ফোনকল দিতে না দেখে। সন্দেহ দানা বাঁধলো ওদের মনের কোনে। এই যুবকটি নিজেও কি কোনো স'ন্ত্রাসী দলের সদস্য? ওর দলের কেউ কি আছে ট্রেনে? মুঠোফোন নিয়ে কি তাদেরকেই আসার নির্দেশ দিয়েছে এই কেবিনের সামনে? সবকিছু সাজানো নাটকও তো হতে পারে। এহেন বিষম ভাবনার দোলাচলে দিশেহারা ওরা দুজন। ওদের ভাবনার ঘোরের মাঝেই রায়ান ফি'সফিসিয়ে প্রশ্ন করলো, 'আপনাদের বাড়ি কোথায়?'

'এই তো, সামনের জেলায়!'--সামিহা জবাব দিলো চিন্তিত কণ্ঠে।


'তাই নাকি! আমার বাড়িও কিন্তু সেখানেই। তা আপনাদের থানার নাম কি?'

'জেলার সবচেয়ে উত্তর দিকের থানা!'--এবারও সামিহাই জবাব দিলো।

'কি বলেন! ওখানে তো আমার দাদা বাড়ি! আচ্ছা, আপনার বাবার নাম কি?'


এরইমাঝে বেশ কয়েকজন লোকের সম্মিলিত পদধ্বনি শোনা গেলো কেবিনের সম্মুখে। ওরা দু'বোন আবারও চুপসে গেলো ভীষণ ভয়ে। রায়ান চুপটি করে শুয়ে আছে উপরের বেডেই। ছেলেটি কিছুটা নির্ভার এখন। তবে এই মুহূর্তেই বের হতে চাচ্ছে না কেবিন থেকে। কোনোভাবে যদি স'ন্ত্রাসীদের নজরে পড়ে যায়! এসব ভেবে ছেলেটি নীরবে শুয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিলো। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কি নীরব থাকা যায়! খানিকটা ঝুঁকে ফি'সফিসিয়ে মেয়ে দুটোকে বললো, 'শুনুন, ওরাই হয়তো দলবেঁধে অপেক্ষা করছে কেবিনের দরজায়। চুপচাপ শুয়ে পড়ুন তো! আর আমার সাথে ঐরকম ব্যবহারই করবেন!'

'কিরকম ব্যবহার?'--কেবিনের সামনে লোক থাকায় সামিহাও ফি'সফিসিয়েই প্রশ্ন করলো। 


'ঐ যে বলেছিলেন আমি আপনার হাজব্যান্ড! আমাকে আপনার হাজব্যান্ড ভেবেই সেরকম বিহেভ করবেন!'

'কি বললেন?'--দাঁতে দাঁত চেপে।

'শুনেন নি? নাকি আবার শুনতে চান? বলেছি, আমার বউয়ের মতো ব্যবহার করবেন!'

Tahmina Choti 

আজ এমন এক পরিস্থিতি ; জোরে প্রতিবাদ করারও সুযোগ নেই। এসব দুষ্ট কথাও সহ্য করতে হচ্ছে নীরবে। ওরা দুজনও চায়; রায়ান যদি নির্দোষ হয় তবে স'ন্ত্রাসীদের হাতে ধরা না পড়ুক! কিন্তু এ আগন্তুককে নিজেদের কেবিনেও রাখতে ইচ্ছুক নয়। ওদের মাথায় বিচিত্রসব চিন্তা; আমরা দু'বোন কেবিন থেকে বের হতে গেলেই রায়ান আবারও পথ আটকে দেবে। উনার সামনে দিয়ে আমরা হয়তো বের হতেই পারবো না। স্বভাবেও তো ভালো নয় লোকটা। বিনা পারমিশনে মেয়ে মানুষের কেবিনে ঢুকে পড়েছে। আবার গায়ের জোরে চ'ড়-থা'প্পড়ও মে'রেছে। শুধু কি এটুকুই? স্বামীর মতো ট্রিট পাবার বায়নাও ধরেছে। কতো বড় দুঃসাহস! যেকোনো নেগেটিভ কাজই অবলীলায় করতে পারে ছেলেটি! তাছাড়া উনাকে তাড়া করা স'ন্ত্রাসীরা বারবার এসে নক করছে দরজায়। দরজা না খুলে দেয়ায় ক্ষে'পে গিয়ে আমাদেরও তো ক্ষতি করে বসতে পারে! এসব ঝামেলায় না জড়িয়ে আপদটাকে বের করে দেয়াই উত্তম। নতুন ফন্দি আঁটতে হবে ওকে তাড়াতে।


ওরা দু'বোন আজ কিছু তাজা ফল কিনে নিয়েছে ট্রেনে ওঠার আগে। সেসবই দু'হাতে নাড়াচাড়া করছে এখন। পেয়ারা আর আনার গঠনে বেশ শক্ত। ছু্ঁ'ড়ে মা'রলেই আগন্তুক ছেলেটি আ'হত হবে। প্রথমে এগুলো ছুঁ*ড়ে মে*রেই আ'ক্রমণ শুরু করা উচিত। উনাকে ঘোরের মাঝে রেখে বের হতে হবে দরজা খুলে। এহেন আ'ক্রমণের প্ল্যান করতেই আবারো ন*ক হলো অবাধ্য দরজায়। সামিহা কণ্ঠে বিরক্তির সুর টেনে প্রশ্ন করলো, 'কে?'


ওপাশ থেকে জবাব এলো, 'আমি রেলের লোক। বিনা টিকেটে অন্যায়ভাবে আপনারা পর পুরুষকে উঠিয়েছেন কেবিনে? খুলুন, দরজা খুলুন!'


রেলের লোকের কথা শুনে ওদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। রেলের লোকেরা আজ কি ধরনের শা'স্তি দেবে; ওরা কল্পনাও করতে পারছে না। শুধু একটাই দুশ্চিন্তা হচ্ছে; না জানি এই রায়ানের সাথে ধরে বিয়েই দিয়ে দেয়! এহেন বৈরী ভাবনার মাঝেই ওপাশ থেকে আওয়াজ ভেসে এলো, 'কি হলো! দরজা খুলছেন না কেন?


মন্তব্যসমূহ